শাশ্বতী দাশগুপ্ত
দুটি কবিতায়
কবি শাশ্বতী দাশগুপ্ত
অক্ষত
আমার স্মৃতির আড়াই কাঠা জমিতে,
তোমার জীবনের অক্ষত জলছবি !
কি তীব্র অতীতচারিতা সত্তার শিকড়ে !
বিজয়ী হয় চেতনা, ব্যাহত হয় জীবনের ভিত ।
ভীষন দুপুর সেঁকে, বিকেলের পড়ন্ত মেঘ
অদূরে কুয়োর পাড়ে, সীতার গন্ডীতে তুমি !
নামছে সাঁঝের কার্তিক, একরাশ হিমে !
তাকিয়ে রয়েছি আমি, বোঝাপড়ায় তুমিই আড়াল !
তমসার ঘন রেখা মেখে , শান্ত হয়ে বসে পড়ো
তোমার খোলা বারান্দা কে কোলে নিয়ে!
রোদে জলে তোমার মন্থর যাত্রা আর্দ্র হয়নি কখনো !
একা বলতে কি বোঝায়, কাকে যে বলে একা !
তা তুমিই বলতে পারতে ! বলনি কখনো ।
আমি তোমার মধ্যে বৃষ্টি দেখতে চেয়েছি,
তোমার নরম চোখে ছায়া চেয়েছি,
ঝোড়ো নিশ্বাসের পতন চেয়েছি !
দৃঢ় চোখে আকাশ দেখেছ, আমাকে দেখনি!
বৃষ্টি ফেলেছ মাটিতে, আমাকে দাওনি।
তামসী মেঘের আড়ালে করুণ করেছ ছায়া।
ভোরের কুয়াশা থেকে শেষ রাতের তারা অব্দি
আমি ফুরিয়েছি আমার সময়, আমার দিবস, আমার যাপন !
অবশিষ্ট যা ছিল তা দিয়ে ফেলেছি তোমার আকাশে,
তোমার মাটিতে, তোমার শিকড়ে, তোমার অঙ্কুরে !
বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছি প্রতিরাতে !!
একা মানুষ
গেরস্থালির সকাল দুপুরে জড়িয়ে থাকে দু:খের বর্ণমালা,
ঘুরেফিরে ক্ষয়পোকা প্রাণীর মত কর্কশ যাপন,আর তার সাথে মিশে যায় জলে ভেজা চোখ।
যে মানুষ ভিতরের ,সে তখন ছিটকে বেরোয়,সমস্ত ভুলের থেকে সে চায় পালাতে,যেখানে দিনকালের ঠিকানা নেই,একের পর এক সত্য বললেও মনে হয় মিথ্যে বলছে।
গভীর অনুভব থাকে আর থাকে দৃশ্যের বেদনা,হাওয়ারুদ্ধ মাটি হয় টলোমলো, অপমানের বোঝা আর অবিশ্বাস নিয়ে শূন্যতাকে ছোঁয়া মানুষ আর নির্ভরতা জোগাতে পারেনা, কিছুতেই আয়ত্তে আনতে পারেনা একমুঠো আনন্দকে।

Comments
Post a Comment