অভিনন্দন মাইতি
দুটি কবিতায়
কবি অভিনন্দন মাইতি
নকশীকাঁথা
সেলাইয়ের পাশে ঘোমটা দিয়ে থাকে খিদের গল্প
টোপের মুখে দাঁড়ায় অনাহারি দিন
বৃষ্টি কবে ভোলাতে পারে দানাপানির ঘ্রাণ
জিভ বড় বে-আক্কেলে
পান্তাভাতে শুধু নুনই যথেষ্ট
ফুঁড়ে তোলে ইস্তেহারের পুস্তিকা
ক্ষেপা বাউল হলে জটগুলো সার্থক হবে
গোপনে গিঁট বাঁধা সুতো জড়িয়ে রাখে রক্তের হিসেব
নখে নখে বিদ্যুৎ
জন্মের দাগ গাঢ় হয়
মুখের হাসির নকলতা বেমালুম উদাসীন
অগোচরে ব্যথার কাহনমালায় নকশীকাঁথা ধরে রাখে তীব্র জ্বালা
বিরুদ্ধ বাজনা
চুপিচুপি ভেঙে যাচ্ছে বেড়া
লাগামহীন বাতাস ঢুকছে অবলীলায়
মাঠ পেরিয়ে উঠোন ডুবছে জলে
নক্ষত্র জানে ভুলে যাওয়া স্মৃতির ব্যবচ্ছেদ
অন্ধকার রাতের আকাশে এখনও পাখি শোনায় শপথের গান
জটলার আবহে চূর্ণ হয় সভ্যতার বেসুর তাল
কখন শূন্য স্কুলের দরজায় টোকা দেয় বিরহী সময়
খাতিরের বশে বেমালুম ভুলে যায় শীতলপাটির খরা
যোগের আশায় অবিরাম বেড়ে যায় বিয়োগের বোঝা
দরদরে ঘামে জমা হয় শূন্যতার প্রহর
উদাসী বাতাস দূর দেশের মাটি
শৈল্পিক বারান্দায় হামাগুড়ি দিয়ে যায় বিরুদ্ধ বাজনা

Comments
Post a Comment