সুমন দিন্দা

দুটি কবিতায়

কবি সুমন দিন্দা

স্রোতে নামার আগে


অনেক অনেক প্রসববেদনা নিয়ে 

কবিতাঘরে প্রবেশ করার পর দেখলেন 

আপনার সামনে টোটাল ব্ল্যাক আউট,

এক অন্ধকার কড়াইয়ে আপনি শুয়ে 

আর নীচে আগুন জ্বালছে সহকবিদের ঈর্ষা, 

প্রতিষ্ঠিতদের পজিশন হারানোর ভয় তাদের সহকারী। 

অবশ্য দিনের আলোয় এসব চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত --

প্রশংসা আর স্তুতি শুনে আপনার মনে হবে

আপনি বিখ্যাত হওয়ার সীমায় পা রেখেছেন, 

এবার হয়তো চর্চা চলবে, বিশ্লেষণ হবে

নতুনত্বের দাবি নিয়ে প্রকাশ্যে দাঁড়াবে লেখা। 

কিন্তু সবকিছু ভুল প্রমাণের দায়িত্ব নিয়ে 

সময় এগিয়ে আসবে মুখোশের বিমূর্ততায়,

সমস্ত সাধনা উজাড় করার পরেও

কেউ আপনার ভুল ধরিয়ে দেবে না,

বরং দলে রাখার প্রচেষ্টায় প্রলুব্ধ করে 

রিমোট হাতে চালিত করবে যন্ত্র হিসেবে। 


একটাই লক্ষ্য তাঁরা স্থির করে রাখেন

আপনি এগিয়ে গেলে তাঁরা ছিটকে যাবেন 

মন আর শব্দের বাটখারায় লঘু হয়ে পড়বেন। 

তাই দু'হাতে সামলে রাখার অদ্ভুত সম্মোহনে

আপনি নিজের হাতে তুলে আনবেন অন্ধকার। 


রাতের কবিতাঘর কীভাবে এই জাল ছিঁড়ে ফেলবে

সেটা শুধু আপনার কলমের মেরুদণ্ডই ঠিক করবে।



প্রেমিক


কোনো এক ঠোঁটকাটা সূর্যের পড়ন্ত আলো

যখন সুপুরি বাগানের মজলিসে ঢুকে পড়ে 

হলুদের বিচ্ছুরণে তোমাকে লাজুক করেছিলো,

তখনই ছেঁড়া ছন্দের ধুলোবালি থেকে উঠে আসা 

এক বিমুগ্ধ স্বজনপোষণ আমাকে বাধ্য করেছিলো 

ফ্লাইওভারের মতো দাঁড়িয়ে তোমাকে প্রপোজ করতে। 

তবে নিন্দুকের খোলা হাওয়ায় উড়ে যাওয়া স্বর

তোমার কাছে আশ্রয় নেওয়ার আগেই হারিয়ে ফেলে পথ,

বোবা ব্যালকনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুধু দ্যাখে

কীভাবে রোদ ফিরে গেছে রাতের মায়াজালে,

কীভাবে ছায়া বড়ো হয়ে পৌঁছে গেছে তপোবনে,

যেখানে পরিত্যক্ত জলকণা হরিণের অপেক্ষায় 

নৈঋত কোণে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে। 

সেই হরিণ যে একদিন শকুন্তলার আদর ভেঙে 

উঠে দেখেছিলো দুষ্মন্তের আলিঙ্গন, 

আর আসন্ন বিচ্ছেদ বিচারে হয়ে উঠেছিলো পাগল।


দ্যাখো, এসব প্রলাপ নিয়ে চিরকাল বেঁচে থাকে প্রেম

মহাকাব্য পেরিয়ে প্রতিটি জাগরণ মুহূর্তে। 










Comments

Popular posts from this blog

মজিদ মাহমুদ

অভিনন্দন মাইতি

কবি ও চলচ্চিত্র পরিচালক আমীরুল আরহাম